নারীর প্রতি বৈষম্য ও অবমাননা বন্ধ হবে কবে?

83

নারী অধিকারের কথা বিশ্বব্যাপী উচ্চারণ হলেও আসলে নারীরা এখনও নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একইসঙ্গে ঘরে-বাইরে নির্যাতনের শিকার তারা। এমন প্রেক্ষাপটে ‘ব্যালেন্স ফর বেটার’ থিম নিয়ে এবারও এসেছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

এই দিবসটির পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে সরকার দমন-পীড়ন চালায়।

১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯১০সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন।

এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হয়। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে।

বাংলাদেশেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লাভের আগে থেকেই এই দিবসটি পালিত হয়। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নারী নির্যাতনের ভয়াবহ অবস্থা বিদ্যমান। তবে বাংলাদেশে সব সরকারের আমলে নারীরা অপেক্ষাকৃত অবহেলার স্বীকার হলেও এই সরকারের আমলে নারীর প্রতি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নারীরা আজ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, সশস্ত্র বাহিনী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে উচ্চপদে সমাসীন।

সম্প্রতি একশনএইড বাংলাদেশের ‘সেইফ সিটিজ ফর উইমেন’ ক্যাম্পেইনের একটি গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের শতকরা ৮৮জন নারী রাস্তায় চলার পথে অপমানজনক মন্তব্যের মুখোমুখি হন। এদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ চালক ও চালকের সহকারীর দ্বারা এবং শতকরা ৬৯ জন দোকানদার এবং বিক্রেতার মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হন।’

গবেষণার এমন ফলাফল সত্যিই আশঙ্কার। নগরের চিত্র যদি এমন ভয়াবহ হয়, তাহলে গ্রামের নারীর অবস্থা কেমন তা সহজেই বুঝা যায়। শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষের এই নৈতিক বিপর্যয়ের সংবাদ আমাদের লজ্জিত করে। আমরা মনে করি, সুশিক্ষার অভাব, নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই এমনটা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে কেবল একটি দিবস হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা চাই, সমাজের সবক্ষেত্রে নারীর বৈষম্য ও অবমাননা বন্ধ হোক। এজন্য যার যার অবস্থান থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানাচ্ছি।

মন্তব্য করুনঃ