বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়

74

প্রভাষ আমিন : ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এক ঘোরলাগা বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসেই অনন্য এক দলিল। মাত্র ১৮ মিনিটে হৃদয় থেকে উচ্চারিত এক হাজার ৮৬ শব্দের ভাষণে বাঙালির ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস তো তুলে ধরেছেনই, তাতে ওঠে এসেছে বিশ্বের অধিকার হারা নিপীড়িত মানুষের বঞ্চনার কথাও। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়’। বঙ্গবন্ধুর এ চাওয়া শুধু বাংলার মানুষের চাওয়া নয়, সারা বিশ্বের অধিকারহারা মানুষের চাওয়া। এই চাওয়া আজও প্রাসঙ্গিক। এখনও অধিকারহারা মুক্তির আকাক্সক্ষা গুমড়ে কাঁদে বাংলার আকাশে। মাত্র ১৮ মিনিটের স্বতস্ফুর্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি চেয়েছিলেন। কী অর্থবহ চাওয়া। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করে যা বলবে, বঙ্গবন্ধু এক নিশ্বাসে তা বলে দিয়েছিলেন।
যতোবার এই ভাষণটি আমি শুনি, ততোবারই আমি কিছু না কিছু শিখি। যেমন বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ শুনে গণতন্ত্র সম্পর্কে আমার ধারণাই বদলে গেছে। আমি এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণতন্ত্র নয়, ন্যায্যতার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আর ন্যায্যতার গণতন্ত্রের শেষ কথা মানি বঙ্গবন্ধুর ভাষণকেই ‘আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবোÑ এমনকি আমি এ পর্যন্তও বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজনও যদি সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেবো’। কিন্তু সেই ন্যায্যতার গণতন্ত্রের ধারণা থেকে বাংলাদেশ এখন অনেক দূরে। ন্যায্যতা নয়, এখন চারপাশে এখন শুধু প্রতিহিংসা। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারি না। কারো মত ভালো না লাগলেই তার টুঁটি চেপে ধরি।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে; মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য আমাদের আর কতো লড়াই করতে হবে?

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

মন্তব্য করুনঃ