বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে প্রাণঢালা অভিনন্দন

126

প্রভাষ আমিন : যমে-মানুষে লড়াই বলে একটা কথা আছে। গোটা জাতি তেমন একটা লড়াই দেখলো রুদ্ধশ্বাসে। জাতির জন্য স্বস্তির, সেই লড়াইয়ে আপাতত মানুষের জয় হয়েছে। এই জয় একই সঙ্গে স্বস্তির, গর্বের, আনন্দের, আত্মবিশ্বাসের। ৩২ ঘণ্টার লড়াই শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উড়ে গেছেন সিঙ্গাপুরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উড়িয়ে নেয়া হয়েছে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। তবে ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার মতো ফিট করে তোলা এবং সত্যিকার অর্থেই তার জীবন বাঁচানোর কৃতিত্বটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের, বিশেষ করে কার্ডিয়াক টিমের। তাদের জন্য প্রাণখোলা অভিনন্দন।

শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোববার সকালে ওবায়দুল কাদের বিএসএমএমইউতে আসেন। সেখানে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এনজিওগ্রাম করে দেখা যায় তার হার্টে তিনটি ব্লক। প্রাথমিকভাবে একটি রিং পড়িয়ে তার জীবন বাঁচানো গেলেও ওপেন হার্ট সার্জারির বিকল্প ছিলো না। কিন্তু ওপেন হার্ট সার্জারির মতো ফিট তিনি ছিলেন না। দুপুরের মধ্যে তিনি মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। তাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টা হয়েছে। তার রক্তচাপ চলেই গিয়েছিলো প্রায়। কৃত্রিমভাবে সেটা বজায় রাখা হয়েছে। রক্তে সুগার কমাতেও ঔষধের সাহায্য লেগেছে। বিকালের পর থেকে তিনি আস্তে আস্তে সাড়া দিতে শুরু করেন। রাতেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উড়ে আসেন মাউন্ট এলিজাবেথের চিকিৎসক। কিন্তু তারাও তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার ছাড়পত্র দেননি। ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে চার্টার্ড ফ্লাইটে ভারত থেকে আসেন প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেঠি। তিনি সবকিছু দেখেশুনে বলেছেন, বিএসএমএমইউর ডাক্তাররা অসাধারণ কাজ করেছেন। এমনকি ইউরোপ-আমেরিকাতেও এ ছাড়া কিছু করার ছিলো না। তবে তিনিও তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
ওবায়দুল কাদেরের জীবন বাঁচিয়েছে বিএসএমএমইউ। তার ওপেন হার্ট সার্জারির করার মতো দক্ষ সার্জনও বাংলাদেশে আছেন। তবে তাকে দুটি কারণে সিঙ্গাপুর নিতে হয়েছে। প্রথম কথা, তার মতো ভিআইপি রোগীর অপারেশন করতে বাংলাদেশের যেকোনো সার্জনই কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালেই ভিআইপি ভিজিটরদের স্রোত সামলানো সম্ভব ছিলো না। যে দুদিন তিনি বিএসএমএমইউতে ছিলেন, সে দুদিনই আমরা শুধু ওবায়দুল কাদের নয়, সিসিইউতে থাকা অন্য রোগীদেরও ঝুঁকি বাড়িয়েছি। ভবিষ্যতে কোনো ভিআইপি রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে।

আরেকটা কারণে ধন্যবাদ পাবেন বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে। এতো ব্যস্ততার মধ্যেও তারা সময়ে সময়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন। সর্বশেষ খবর জানিয়েছেন, যাতে কোনো গুজব ছড়ানোর সুযোগ পায়নি।

ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে বলেই মনে করার কোনো কারণ নেই বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে। এখনও আমাদের গর্ব করার মতো অনেক ডাক্তার আছে। তবে সত্যিকার অর্থে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল আমাদের নেই। এমনকি ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউকেও একটি বেসরকারি হাসপাতালের সহায়তা নিতে হয়েছে। ডাক্তার জীবনপণ করে ওবায়দুল কাদেরের জীবন বাঁচিয়েছেন, দেবী শেঠি প্রশংসা করেছেন। কিন্তু তাতেও আত্মপ্রসাদের সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালকে সত্যিকার অর্থে একটি বিশ্বমানের হাসপাতালে পরিণত করতে হবে, যাতে কাউকেই আর সিঙ্গাপুর যেতে না হয়।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

মন্তব্য করুনঃ