ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই চায় নিউজিল্যান্ড

20

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা হেলায় উইকেট হারিয়ে আসলেও আদতে হ্যামিল্টনের উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক। এবার ওয়েলিংটনের উইকেটও ব্যাটসম্যানদের কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করা উচিত বলে মনে করছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড- দু’দলই এখন ওয়েলিংটনে অবস্থান করছে। হ্যামিল্টনে ইনিংস ও ৫২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এর আগে ওয়ানডেতেও ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। আগামীকাল, আট মার্চ ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। তৃতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ মার্চ, ক্রাইস্ট চার্চের হ্যাগলি ওভালে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, বেসিন রিজার্ভের উইকেট ব্যাটসম্যানদের হয়েই কথা বলে। বিশেষ করে স্বাগতিকদের জন্য এই কথাটা আরো বেশি সত্য। শেষ সাত টেস্টে এই ভেন্যুতে পাঁচবার শতাধিক রান বোর্ডে জমা করতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড।

সর্বশেষ এখানে যে টেস্টটা হয়েছে সেখানে তৃতীয় দিনে ২০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে চতুর্থদিনের পুরোটা সময় ব্যাট করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও কুশল মেন্ডিজ। দু’জনেই সেঞ্চুরি করেন। এটুকুতেই বোঝা যায়, উইকেটে ব্যাটসম্যানদের অনেক প্রাপ্তির জায়গা আছে। এই ধরনের উইকেটে আপত্তি নেই নিউজিল্যান্ডের। পেসার ট্রেন্ট বোল্ট বলেন, ‘আমরা একই ধরনের কন্ডিশনই (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট) আশা করছি। আশাকরি এবার আর ওরকম একটা চতুর্থ দিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে না, যেখানে আমরা একটি উইকেটও ফেলতে পারিনি। সেটা যদি না হয় তাহলে আমরা উইকেট পাওয়ার কৌশলটা বের করে ফেলতে পারবো।’

ওয়েলিংটন টেস্টকে সামনে রেখে মানসিকভাবে ইতিবাচকই থাকতে চায় নিউজিল্যান্ড। কোনো একটা নির্দিষ্ট বিভাগে নয়, বরং ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই সমানভাবে মনোযোগ দিচ্ছে কেন উইলিয়ামসনের দল। বোল্ট বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক থাকতে পছন্দ করি। এখানে আমরা অনেক খেলেছি। ফলে আমরা জানি কখন কি হতে পারি। এখানে আমাদের ভালো ব্যাটিং পরিসংখ্যান সেটাই প্রমাণ করে। এটা খুব ভালো উইকেট। উইকেটে সামান্য সবুজ ঘাস থাকলে সেটা পেসাররা খুব উপভোগ করবেন। আমরা বোলিং ইউনিট হিসেবে ভালো করতে চাই।’

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ শর্ট বল মোকাবেলা করতে গিয়ে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছে। এবারো বাংলাদেশকে ক্রমাগত শর্ট বল দিয়েই স্বাগত জানানোর আগাম ঘোষণাই দিয়ে রাখলেন বোল্ট। তিনি সফরকারীদের হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশকে এবার আরো বেশি শর্ট বোলিং মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। অবশ্যই এবারো আমাদের নেতৃত্বে থাকবে নিল ওয়াগনার। আশাকরি, ওরাও (বাংলাদেশ) এর জন্য প্রস্তুত আছে। যখন উইকেটে কিছুই থাকে না, কোনো সুইং থাকে না, তখন বাড়তি কিছু একটা করার প্রয়োজন পড়েই। সেদিক থেকে এই অস্ত্রটা আমাদের জন্য বেশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।’

হ্যামিল্টনে প্রথম দিন শুরুটা বাংলাদেশের ভালোই হয়েছিল। সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। যদিও পরে খেই হারিয়ে মাত্র ২৩৪ রানে অল আউট হয়ে যায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২৯ রান আসলে ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এবার বাংলাদেশকে আরো বেশি চেপে ধরতে চায় নিউজিল্যান্ড।

বোল্ট বলেন, ‘হ্যামিল্টন টেস্টের পর আমরা বুঝেছি যে আমাদের কয়েকটা জায়গায় আরেকটু উন্নতি করার সুযোগ আছে। বিশেষ করে শুরুতে আমরা আরো ভালো করতে পারতাম। আমরা ওদের টপ অর্ডারে আরো বেশি চাপ সৃষ্টি করে শুরুতেই উইকেট পেতে চাই।’

মন্তব্য করুনঃ