রিয়াজুদ্দিন বাজারের হুন্ডি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে স্বর্ণ চোরাচালান

114

চট্টগ্রামের রিয়াজুদ্দিন বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার বিশাল এক সিন্ডিকেট। নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অনেক ব্যবসায়ী৷ এই দুটি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ একই সিন্ডিকেটের হাতে।

গত ৩ মার্চ চট্টগ্রামে দুটি আলাদা অভিযানে ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের ৭০০ স্বর্ণের বার আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ এলাকায় ৬০০ পিস এবং নগরীর সিআরবি এলাকায় ১০০ পিস স্বর্ণের বারসহ চারজনকে আটক করা হয়।

জোরারগঞ্জে আটক হওয়া দুই image যুবক চট্টগ্রাম রিয়াজুদ্দিন বাজার থেকে স্বর্ণ নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে৷

অন্যদিকে, সিআরবিতে আটক হওয়া চারজন রিয়াজুদ্দিন বাজারের কথা শিকার না করলেও তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা অনুমান করছেন তারাও রিয়াজুদ্দিন বাজার থেকে স্বর্ণ নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রিয়াজুদ্দিন বাজার কেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার বিশাল এক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। যাদের মূল হোতারা মধ্যপ্রাচ্যে বসেই নিয়ন্ত্রণ করছে এই চোরাচালানের নেটওয়ার্ক।

নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে রিয়াজুদ্দিন বাজারের এক ব্যবসায়ী সিভয়েসকে জানিয়েছেন, পান-বিড়ির দোকান, কসমেটিকস ও মোবাইলের দোকানের আড়ালে ব্যবসায়ীদের একটা বিরাট অংশই জড়িত রয়েছে এই অপকর্মের সাথে। তিনি বলেন, এদের ব্যাপারে প্রশাসন বেশ ভাল করেই জানে। কোন এক অজানা কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা।

একই চক্র একসাথে স্বর্ণচোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এমনকি একটা ব্যবসার সাথে অন্য ব্যবসাটিও খুব দারুণভাবে সম্পৃক্ত বলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এই প্রক্রিয়ায় বিদেশে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। আর তাদের প্রতিনিধিরা প্রবাসীদের পরিবারের কাছে টাকা পৌছে দেয়৷ প্রবাসীদের পরিবারের কাছে পৌছে দিতে যে টাকা ব্যবহার করা হয় তার পুরোটাই কালোটাকা বলে স্বীকৃত। এভাবেই বিশাল অংকের কালো টাকা সাদা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

অন্যদিকে, প্রবাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকাগুলো রেমিট্যান্স হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। অথচ এই টাকার বিরাট একটা অংশ দিয়ে কেনা হয় স্বর্ণ। এভাবেই সরকার বিশাল অংকের রেমিট্যান্স আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আটককৃতরা জানিয়েছে, এই স্বর্ণগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর কাজে সাধারণ প্রবাসীদের ব্যবহার করা হয়। বিনিময়ে তাদের প্লেন ভাড়া পরিশোধ করে চোরাকারবারিরা। তাদের কাজ হচ্ছে শুধুমাত্র স্বর্ণগুলো বিমানে তুলে বিমানের সিটের ব্যাক পকেটে রেখে দেয়া। যেগুলো পরে অসাধু কিছু বিমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে পৌছে যায় রিয়াজুদ্দিন বাজারে৷

এ বিষয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান)’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিভয়েসকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে হুন্ডি ব্যবসার কোন যোগাযোগ আছে কিনা তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে এখনই কোন মন্তব্য করতে পারছি না।

এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে রিয়াজউদ্দিন বাজারে প্রসাধনীর দোকানদার হিসেবে পরিচিত আবু আহমেদ। ২০১৬ সালে রিয়াজুদ্দিন বাজার বাহার মার্কেটে ৩টি সিন্ধুক থেকে আড়াইশ স্বর্ণের বার ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার হওয়ার ঘটনার তদন্তে যার নাম উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, দেশের স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলোর মধ্যে রিয়াজুদ্দিন বাজার কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট অন্যতম বড় একটি সিন্ডিকেট। রিয়াজুদ্দিন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে দুটি সিন্ডিকেট এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এরা মূলত রিয়াজউদ্দিন বাজারে গুদাম ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছে অবৈধ স্বর্ণের ভান্ডার। এর মধ্যে একটিতে নেতৃত্ব দেয় ব্যবসায়ী আবু আহমেদ। আরেকটিতে হাকিম ও সাত্তার নামে দুজন।

মন্তব্য করুনঃ

এই বিভাগের অন্যান্য খবরঃ

পাহাড় কাটার দায়ে পিএইচপি’কে জরিমানা
অঙ্গীকার শিল্পগোষ্ঠীর টেকনাফ শাখায় ভর্তি চলছে
টেকনাফ উপজেলা নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা
টেকনাফের ইয়াবার দুর্নাম ঘুচাতে অধ্যাপক মোঃ আলীকে নৌকায় ভোট দিন- সাবেক এমপি বদি
কক্সবাজার সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহলে ব্যবহৃত ৫ বীচ বাইক বিক্রির অভিযোগ
পৌর যানজট মুক্ত কমিটির নামে চাঁদাবাজি শীর্ষক সংবাদের একাংশের বিবৃতি
কক্সবাজারে জামাই শশুরের শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট!
সমুদ্র পাড়ের মিউজিক আইডল: গান ফেরি করে যার জীবন চলে !!!
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ল এল্যামনাই এসোসিয়েশন "পুলার"ইফতার এবং দোয়া মাহফিলে অনুষ্টিত
এডভোকেট আবু মুসা মুহাম্মদ এর ঈদ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন
চট্টগ্রাম শিক্ষানবিশ আইনজীবী কল্যাণ পরিষদের কমিটি গঠন
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে না'গঞ্জ আর্টিস্ট ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ