টেকনাফে ইয়াবা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাহমুদুল করিম মাদুসহ ৩ সহোদর অধরা

355
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের মাহামুলুদুল হক ওরফে মাহমুদুল করিম মাদু ওরফে মোহাম্মদ হোসাইন একজন চোরাচালানী ডন হিসেবে পরিচিত পেলেও তিনি বরাবরই অধরা রয়ে গেছেন।ভয়ংকর স্বর্ণ, ও ইয়াবা ব্যবসা করে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। কক্সবাজার শহরের সিটি কলেজ সাহিত্যিকা পল্লীতে তিনটি পাকা বাড়ি কিনেছেন। শহরের এসএমপাড়া সহ সাবরাং ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিনেছেন কয়েক কোটি টাকার জমি।তার বাড়ি টেকনাফে সাবরাং এলাকায় হলেও মাসের অর্ধেক সময় থাকেন কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকাপল্লী এলাকায়।
মাহমুদুল করিম মাদু দীর্ঘদিন ধরে তার সহোযোগীদের নিয়ে  বৈধ পান,সুপারি ব্যবসার আড়ালে স্বর্ন পাচার ও ইয়াবা ব্যবসা করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন।
তার সহযোগী সাইফুল ,কাইছার হামিদ ও তার ভাই ইদ্রিচ জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় স্বর্ণ ও ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। তার সাথে রয়েছে আপন তিন সহোদর,ও তার শ্যালক। সর্বশেষ মাহমুদুল করিম ওরফে মো. হোসেন মাদুসহ অপর ভাইদের বিরুদ্ধে গত ১০ জানুয়ারি টেকনাফ থানায় পুলিশের উপর হামলা, সরকারী দায়িত্ব পালনে বাধা ও ২ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এর আগে স্বর্ণের বার ও ইয়াবা আটকের ঘটনায় এই মাদুর বিরুদ্ধে রয়েছে লোহাগাড়া থানা ও কক্সবাজার সদর মডেল থানায় আরো ২টি মামলা। রয়েছে মানবপচারকারীর তালিকায়ও।
এসব মামলা মাথায় নিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান, ইয়াবা  ব্যবসার মতো ভয়ংকর সব অপরাধে জড়িত থাকার পরেও মাদু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে অনেকটা চ্যালেঞ্জ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্বর্ণ ও ইয়াবা গডফাদার মাহমুদুল হক মাদু কক্সবাজার শহরে বসেই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ।অভিযোগে জানা যায়, একসময় প্রবাসে থাকা টেকনাফ সাবরাং উত্তর নয়াপাড়া এলাকার খুইল্যা মিয়ার ছেলে মাহামুলুদুল হক মাদু ওরফে মাহমুদুল করিম মাদু ওরফে মে. হোসেন মাদু দেশে এসে তার শ্যালকদের নিয়ে শুরু করেন  স্বর্ণ ও ইয়াবা চোরাচালান।তার দুই শ্যালক প্রশাসন কে ভূল ঠিকানা দিয়ে বার বার পার পেয়ে  যাচ্ছেন।   এ খানে দেখার বিষয় হচ্ছে সাইফুল ইসলাম আটকের সময় তার পিতার নাম আব্দুল আজিজ ও মাতার নাম নুর জাহান বলে জানালেও পুলিশি তদন্তে বের হয়ে আসে অন্য ঠিকানা। আসলে তার পিতার নাম ডা: আব্দুর রহিম ও মাতার নাম দিলদার বেগম। সর্বশেষ সঠিক নামে এই মামলার চার্জশিট দিলেও থানার গোপন রেজিষ্ট্রারে ডিজিটাল তল্লাশি দিলে তার আসল নাম ঠিকানা পাওয়া যায় না। কোন মামলার রেকর্ড পাওয়া যায় না। পিতা আব্দুল আজিজ এই ভূল নামে তল্লাশি করলেই মামলার তথ্য পাওয়া যায়। ফলে সে বেপরোয়া হয়ে র্স্বণ, ইয়াবা ও হুন্ডিসহ বিভিন্ন চোরাচালানে আরো বেশি গতিতে এগিয়ে চলেছে। ফলে প্রাথমিক ভাবে থানার রেজিষ্টারে তল্লাশি চালালেও র্স্বণসহ আটক সাইফুলের নামে কোন মামলার তথ্য পাওয়া যায় না।তার অপর ভাই সাবরাং বাজার পাড়ার ডাঃ আব্দুল রহিম ছেলে মাহমুদুল করিম মাহমুদ তার বোন জামাই  নাম একই হওয়াতে  ভূল পরিচয় দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত পেলার চেষ্টা করে।তাই মাহমুদুল করিম মাহমুদ এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।ও তার অপর ভাই রেজাউল করিম   গর্ডপাদার কক্সবাজার শহরের সিটি কলেজ সাহিত্যিকা পল্লী এলাকায়  স্থায়ীভাবে বসবাস করে স্বর্ণ চোরচালান ও ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
টেকনাফ থানার এসআই রাজু আহম্মদ গাজী বাদী হয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি/২০১৯ থানায় দায়েরকৃত মামলা (থানার মামলা নং-২৪, জিআর-২৪, ধারা-১৮৬,৩৩২,৩৩৩,৩৫৩,৩০২/৩৪) সুত্রে জানা গেছে, সাবরাং কচুবনিয়া এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও রশিদ আহম্মদ প্রকাশ ডেইলাকে পুলিশ আটক করে। আটকের পর ইয়াবা উদ্ধারে গেলে তাদের সহযোগীরা পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এঘটনায় ওই দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এসময় ৫টি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, ২২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ২২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও আহত হন।
গত ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তার টয়োটা এলিয়েন প্রাইভেট কার চট্টমেট্রো-গ ১৩-০৭৬৯ থেকে ১ কেজি ৬৬২ গ্রাম ওজনের ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার ও তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
এঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবরাং উত্তর নয়াপাড়া গ্রামের মাহামুলুদুল হক মাদু ওরফে মাহমুদুল করিম মাদু ওরফে মে. হোসেন মাদু ও তার ভাই জাহেদ হোসেন প্রকাশ জারু সহ ২২ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখিত মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলা সুত্রে আরো প্রকাশ, উক্ত আসামীরা অবৈধ অস্ত্র ও ইয়াবার ব্যবসাসহ অবৈধ পথে বাংলাদেশ হতে নদীপথে মানবপাচারে জড়িত। তবে এরা প্রকাশে এলাকায় ও কক্সবাজার শহরে ঘুরাফেরা করছে।ভয়ংকর ইয়াবা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাহামুলুদুল হক মাদু ওরফে মাহমুদুল করিম মাদু ওরফে মে. হোসেন মাদু একটি স্বর্ণের চালান ধরা পড়ে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। এসময় মাদু নিজস্ব গাড়ী, তার শ্যালক সাইফুল ইসলাম ও গাড়ি চালক কায়সার হামিদকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য,গত ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তার টয়োটা এলিয়েন প্রাইভেট কার চট্টমেট্রো-গ ১৩-০৭৬৯ থেকে ১ কেজি ৬৬২ গ্রাম ওজনের ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে পুলিশ। যার আনুমানিক বাজার মুল্য ৫২ লক্ষ টাকা । পুলিশ জানায়, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে পুলিশ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম ওজনের ১০টি স্বর্ণের বারসহ টেকনাফ থানার সাবারাং ইউনিয়নের গোদারপাড়া পুরান বাজারপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে ওশ্যালক সাইফুল ইসলাম ও সাবরাং গোদারবিল মাঝেরপাড়ার রহমানের ছেলে কায়সার হামিদকে আটক করেছিল।এঘটনায় লোহাগাড়া থানার এসআই লিটন চন্দ্র সিং বাদী হয়ে ধৃত আসামী টেকনাফ থানার সাবারাং ইউনিয়নের গোদারপাড়া পুরান বাজারপাড়ার ডাঃ আবদুর রহিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও সাবরাং গোদারবিল মাঝেরপাড়ার রহমানের ছেলে কায়সার হামিদ ও মালিক সাবরাং উত্তর নয়াপাড়ার ১নং ওয়ার্ড , সাবরাং এলাকার কুইল্যা মিয়ার ছেলে বর্তমানে কক্সবাজার সদর থানাধীন সাহিত্যিক পল্লী টিনসেড ঘর, হাইস্কুলের মাঠের পূর্বপাশে (ছিদ্দিক সওদাগরের দোকানের পূর্বপাশে) মোহাম্মদ হোসেন মাদুকে আসামী করে ৮/৯/২০১৫ইং লোহাগাড়া থানার মামলা নং-৮, জিআর-৩৩৭ দায়ের করেন।সর্বশেষ গত ৩১/০১/২০১৬ইং এই মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও আদালতে দাখিল তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবদুল ইউয়াল অভিযোগপত্র নং-৩১, দায়ের করেন।মাহমুদুল করিম মাদু ওরফে মাহমুদুল হক।ওই সময় বিজিবি বলেন, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল নাফ নদী দিয়ে টেকনাফ এবং টেকনাফ থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে পাচারের সময় বিজিবির সদস্যরা ১ কেজি ৪২৫ গ্রাম ওজনের ১০টি স্বর্ণের বারসহ টেকনাফ সারবাংয়ের খুইল্যা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ইদ্রিসকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাঁকে টেকনাফ থানা-পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মাদুর ভাই ইদ্রিসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ওই সময় মোহাম্মদ ইদ্রিস পুলিশকে বলেন, এর আগেও তিনি টেকনাফ থেকে একাধিকবার স্বর্ণের চালান চট্টগ্রামে নিয়ে গেছেন। চট্টগ্রামে স্বর্ণসহ তিনি আরেকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। কারাগার থেকেসম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবার স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন।পুলিশ সুত্রে জানা গেছে,স্বর্ণ, ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী মাহমুদুল করিম মাদু ওরফে মাহমুদুল হক মাদু ওরফে মো. হোসেন মাদুর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ইয়াবা আটক মামলা নং-৮৭/২০১৩ইং, জিআর মামলা নং-৮০০/১৩ইং রয়েছে।
এলাকার সচেতন মহলের দাবী মাদু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বৈধ পান, সুপারি ব্যবসার আড়ালে অবৈধ স্বর্ণ ও ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদেরকে আইনের আওতায় আনলে সব রহস্য বাহির হবে বলে দাবী  সচেতন মহলের।
মন্তব্য করুনঃ

এই বিভাগের অন্যান্য খবরঃ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিককে হয়রানি করা যাবে না : ওবায়দুল কাদের
`চাকরির দাবীতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন’
পতাকা বৈঠক করে ৪ বিজিপি সদস্যকে হস্তান্তর করলো বিজিবি
সাবরাং ইউনিয়ন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত।
মায়ের পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে!
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসীরা
চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দুরন্ত চট্টগ্রাম মিনি ম্যারাথন
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে না'গঞ্জ আর্টিস্ট ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ
Ranitidine banned for alleged link to cancer
সরবে নয় নিরবেই বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ !
চোখে মুখে ওদের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন
উখিয়া ছেপটখালী মাদারবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন : সাবেক এমপি বদি-এমপ...