ড. আহমদ আলী প্রৌজ্জ্বল এক ল্যামপোস্ট

235
ফারুক আজীজ।।

ড. আহমদ আলী। বর্তমানের প্রতিভাধর একজন ব্যক্তিত্ব। ইলমি ময়দানে প্রথম কাতারের যোদ্ধা। লেখনির প্লাটফর্মে শির উঁচু করে আলো বিতরণকারী প্রোজ্জ্বল ল্যামপোস্ট। বর্তমানের ঘুনেধরা সমাজের পরিশ্রমী সংস্কারক। যার কলম ও কলব দুটো-ই একে অপরের প্রতিযোগী আবার দুটোই সমাজের জন্যে সহযোগী। তাঁর নগন্য ছাত্র হতে পেরে আমার মতো অনেক যুবক গর্ববোধ করে। তাঁর দরসে শামিল হয়ে পুরাতন অনেক তথ্যকে নতুন করে বুঝার সুযোগ হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল শিক্ষক ও প্রফেসর। প্রায় ষোলটি গবেষণা গ্রন্থ মানুষের হাতে হাতে। যে গ্রন্থগুলো শুধু বই না; বরং তা চিন্তার জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী জীবন্ত মেসেজ। তাঁর লেখনির নিব হতে সমাজ পরিবর্তনের বার্তা ও চিন্তার জগতকে ধার করার মেসেজ বের হয়। তার চিন্তার মাঝে ইফরাত্ব নেই আবার নেই তাফরিত্বও বরং তিনি নিছোড় করে বের করে ই’তিদালের রস। যা ‘উম্মাতান ওয়াসাত্বান’ এর নির্দেশক। গোঁড়ামীর বর্জ্য নিষ্কাশনে তাঁর প্রতিটি গ্রন্থ স্বচ্ছ জলের ভূমিকা পালন করে আবার ভন্ডামীর সয়লাবকে আটকে দিতে তাঁর প্রতিটি গ্রন্থ বেড়িবাধ স্বরুপ।

আমার মতো যাযাবর টাইপের ছাত্রও তাঁর ক্লাসে সুবোধ বালক হয়ে যেতাম। তার বক্তব্যের নিজস্ব একটা ঢং আছে যা যে কোন ছাত্রকে আকৃষ্ট করে। তাঁর কোন কথা শ্রবণ নির্ভর না; বরং কোরান হাদিস ও সালাফদের রেফারেন্সে ঠাসা খরতাপ রোদ্রের মাঝে এক পশলা বৃষ্টির মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মতবাদের ছাত্র ভর্তি হলেও তাঁর তথ্যনির্ভর কথার ছোঁয়ায় সবাই আকৃষ্ট হয়ে তাঁর জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাবনত হয়ে যায়। হয়ত এখানেই একজন গবেষকের সফলতা।

ড. আহমদ আলী লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ কলাউজান গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনের প্রতিটি ধাপে ঈর্ষণীয় ফলাফলের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পি. এইচ. ডি ডিগ্রী অর্জন করেন। সৌদি আরবের রিয়াদস্থ কিং সাইদ ইউনিভার্সিটি থেকে আরবি ভাষা শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর উচ্চতর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি দেশে বিদেশে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে গবেষণা প্রবন্ধ উপাস্থাপণ করেন।

‘যুবদাতুল বয়ান ফী ঈদাহি উম্মিল কুর’আন’ [ সুরা ফাতিহার তাফসির] তাঁর সদ্য প্রকাশিত তাফসির গ্রন্থ। হয়তো বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় বিশদাকারে ও সহীহ তথ্যে ঠাসা প্রথম গ্রন্থ। সুরা ফাতিহা মানে-ই কুর’আনের মূল ও মৌল। সুতরাং এই সুরায় নিহিত তথ্য ও তত্ত্ব জানা সকলের কর্তব্য। এই চিন্তায় হয়তো লেখক সুরা ফাতিহার তাফসির গ্রন্থ মলাটবদ্ধ করে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে দেয়ার প্রয়াসে নিজের চিন্তার রসকে ঢেলে দিয়েছেন জ্ঞান পিপাসুদের জন্যে।

ড আহমদ আলী একজন মু’তাদিল ব্যক্তিত্ব। বর্তমানের মুখের কথায় মু’তাদিল ব্যক্তিত্ব চোখে পড়লেও নিরেট মু’তাদিল মানুষের বড্ড অভাব। আমরা সবাই কোন না কোন মতবাদের আড়ালে নিজের স্বকীয়তাকে বিসর্জন দিয়েছি। নিজস্ব স্বকীয়তার স্তম্ভে না দাঁড়িয়ে আমরা সবাই মতবাদের তীরে দাঁড়িয়ে থাকতে পছন্দ করি। বাস্তবে তা মরিচীকা বৈ কিছু না। সমাজে কিছু ক্ষণজন্মা ধর্মের নিগুড়তা বুঝানোর জন্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়। তাদের মধ্যে একজন তিনি-ই।

তাঁর ধর্মতত্ত্ব ক্লাসের বয়ান শুনলে বুঝা যায় ধর্মের নামে আমাদের মাঝে কতো কুসংস্কার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমার দেখা ধর্মতত্ত্বের ওপর নিরেট কথা বুঝানোর মানুষ তিনি ছাড়া আরেকজনের দরসে বসেছিলাম। তিনি দারুল মা’রিফ মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক শহিদুল্লাহ কাউসার। তিনিও ধর্মতত্ত্বকে এতো সুচারুভাবে পেশ করেন তা ঈর্ষণীয়। আল্লাহ দু’জনের-ই হায়াত বাড়িয়ে দিন।

ড. আহমদ আলীর নগন্য ছাত্র হিসেবে একটি শিল্প সমালোচনা করার অধিকার নিয়ে বলি, ড. আহমদ আলী গবেষক নাকি দাঈ তা আমার বুঝে আসে নি এখনো। কারণ গবেষক হিসেবে সবার মতামত পেশ করার পরে নিজস্ব মতামত খুব কম পেশ করেন তিনি বা কোন মতামত শ্রেয় বা কোন মত প্রাধান্য তাতে নিজস্ব মতকে ঝাপসিত রাখেন। ওখানেই কেনো তিনি ঝাপসা থাকেন তা বুঝে আসে না বা তাঁর লেখায় তা বুঝতে আমার মতো নগন্যের কষ্ট হয়। কারণ নিজস্ব মতামতের ক্ষেত্রে ঝাপসিত থাকা দাঈ’র পরোক্ষ কারণ হতে পারে কিন্তু গবেষকের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য কি না জানি না।

মন্তব্য করুনঃ