সমুদ্র পাড়ের মিউজিক আইডল: গান ফেরি করে যার জীবন চলে !!!

205

শাহ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে।     

সূর্যটা তখন ডুবুডুবু। সূর্যের রক্তিম আভা সমূদ্রের সারা গায়। সৈকত জুড়ে তখন হাজারো মানুষের ভীড়। অথৈ সমূদ্রে সূর্যের মাখামাখির শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষা। প্রকৃতির এমন মায়াবী আয়োজনে মন যখন ভীষণ তন্ময়তার মধ্যে লুটোপুটি খেলছিল ঠিক তখন হঠাৎ কানে বেজে উঠে একজনের কথা।

কথা নয়, রীতিমতো আকুতি-স্যার গান শুনবেন!! তাকিয়ে দেখি সামনে দাঁড়িয়ে আছে ১০-১৩ বছরের একটি শিশু। পরনে শর্টস। গায়ে জামা আছে, না থাকার মতো। মিটমিট করে হাসছে। সে হাসি আকুতি মাখা। ওর চোখের অদৃশ্য ভাষা বারবার বলছে, আমরা যেন গান শুনি। অবশ্যই গান শুনি। কী গান শোনাবে?, আমার জিজ্ঞাসায় সে সমস্বরে বলে ওঠে, যেকোন গান, আঞ্চলিক, ফোক গান ইত্যাদি। আগ্রহ নিয়ে আমরাও নড়েচড়ে বসি। বলি শুনবো। সে শুরু করে। একটার পর একটা। থামে না। ওদিকে সূর্যও ডুবছে। ডুবছে আমাদের আগ্রহও। তার গান শেষ। আমরা কিছু টাকা ওদের হাতে তুলে দেই। খুবই সামান্য। তারপর ফিরে যাই আমার মূল আগ্রহে। ওর কাছ থেকে কিছু শোনার কিছু জানার চেষ্টা চলে। এটা-ওটা জিজ্ঞেস করি। সাথে ক্যামেরা থাকায় একটি বাড়তি সুবিধে পাওয়া গেল। আমি ওর ছবি তুলছি। সেটি সে উপভোগ করছে। সাথে বলে যাচ্ছে তার জীবন-চিত্রের নানা দিক।

সে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কিন্তু স্কুলে যায় না। বলা যায় যেতে পারে না। প্রায় নিয়মিতভাবে। দারিদ্রের কারণে। বদলে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই ছুটে আসে সমূদ্র পাড়ে। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্য এমনকি রাত অবধি চলতে থাকে ওর এ ছুটে চলা। বেড়াতে আসা মানুষদের ও গান শোনায়। গান গেয়ে শুধু নিজের নয়, পুরো পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে। বাবা থাকলে ও না থাকার মত। মা আছে। কিন্তু তার কোন উপার্জন নেই। ফলে এ অল্প বয়সে পরিবারের সদস্যদের মুখে অনিয়মিত খাবার-পানী তুলে দেয়ার দায়িত্ব পড়েছে তার হাতে। তার মতো আরও অনেক শিশু কক্সবাজার সৈকতে আগত মানুষদের গান শোনায়। শুধু জীবিকার জন্য। বেঁচে থাকার তাগিদে।

গান আর সুরে আমাদের অভিভূত করে দিয়ে ও নিজ গন্তব্যে পা বাড়ায়। বাড়ির দিকে। যেখানে ওর দরিদ্র মা ওর জন্য অপেক্ষা করছে।

ও চলে যায় কিন্তু ভাবনাটা থেকে যায়। বারে বারে দোল খায়। ভীষণভাবে। যে বয়সে ওর হাতে বই থাকার কথা, যে বয়সে ও মায়ের কোলে বসে ছড়া আর কবিতা শেখার কথা সে বয়সে ও সমুদ্রের পাড়ে গানের ফেরি করে বেড়ায়। শুধু একটু বেঁচে থাকার জন্য। শুধু একটু খাবারের জন্য। অথচ সুযোগ পেলে ও হয়তো হয়ে উঠতে পারতো বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কণ্ঠ শিল্পীদের একজন। শুধু একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর অভাবে যারা হারিয়ে যায় চিরতরে!!!

মন্তব্য করুনঃ

এই বিভাগের অন্যান্য খবরঃ

টেকনাফে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে শিল্পমেলার নামে জুয়া খেলা অব্যাহত!
কক্সবাজারে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার
ট্যালেন্ট হান্ট বাংলাদেশ-২০১৯ এর অডিশন সম্পন্ন
টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি
দেশের উদ্যেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজার পৌরসভাকে শতভাগ মাদক মুক্ত করার ঘোষণায় মাদক ও পতিতা ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে
নোঙর এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন কক্সবাজার জেলার প্রগতিশীল সাংবাদিক শাহজাহান চৌধুরী শাহীন
ফতুল্লায় বিয়ের প্রলোভনে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে অস্বীকার, এসপির কাছে বিচার চায় কলেজছাত্রী
টেকনাফ উখিয়ায় এমপি শাহীন বদি’র প্রচেষ্টায় অসহায় ৩০টি পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর
ইয়াবাসহ বন্দুক যুদ্ধে নিহত সাজুর পার্টনার উখিয়ার জসিম ৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক!
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন সেন্টমার্টিনগামী ২৫ যাত্রী
টেকনাফে হ্নীলায় মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত !!