1. engg.robel@gmail.com : Alokito Bangladesh :
  2. nusrat1997.sharmin@gmail.com : Mubaraka Sultana :
সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
টেকনাফে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা আটক ৪৯টি চোরাই মোবাইলসহ আটক ২ গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র এসএটিভি থেকে হেড অব নিউজ ফয়সালকে বের করে দিলো বিক্ষুব্ধরা সন্তানকে নামাজী করে গড়ে তোলার শরীয়তসম্মত উপায় ! ব্যারিস্টার রানা লন্ডনের লিংকনস ইন নর্থউমব্রিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে কল টু দি বার সম্পন্ন করেছেন!! উখিয়ায় সাংবাদিককে পুলিশ কর্তৃক বিনা কারণে আটকের ঘটনা শুনে মায়ের মৃত্যু : এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া উপজেলা যুব লীগ নেতা নুরুল আমিনের পদত্যাগ টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে মোঃ আবদুল্লাহ’র দোয়া কামনা সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ২০১৯ আন্তর্জাতিক অর্থ সম্মেলন যুবলীগের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সম্পাদকের প্রতি নুর হোসেন বিএ’র অভিনন্দন

সমুদ্র পাড়ের মিউজিক আইডল: গান ফেরি করে যার জীবন চলে !!!

  • আপডেট টাইম রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯
  • ২২৭ নিউজটি পড়া হয়েছে

শাহ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে।     

সূর্যটা তখন ডুবুডুবু। সূর্যের রক্তিম আভা সমূদ্রের সারা গায়। সৈকত জুড়ে তখন হাজারো মানুষের ভীড়। অথৈ সমূদ্রে সূর্যের মাখামাখির শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষা। প্রকৃতির এমন মায়াবী আয়োজনে মন যখন ভীষণ তন্ময়তার মধ্যে লুটোপুটি খেলছিল ঠিক তখন হঠাৎ কানে বেজে উঠে একজনের কথা।

কথা নয়, রীতিমতো আকুতি-স্যার গান শুনবেন!! তাকিয়ে দেখি সামনে দাঁড়িয়ে আছে ১০-১৩ বছরের একটি শিশু। পরনে শর্টস। গায়ে জামা আছে, না থাকার মতো। মিটমিট করে হাসছে। সে হাসি আকুতি মাখা। ওর চোখের অদৃশ্য ভাষা বারবার বলছে, আমরা যেন গান শুনি। অবশ্যই গান শুনি। কী গান শোনাবে?, আমার জিজ্ঞাসায় সে সমস্বরে বলে ওঠে, যেকোন গান, আঞ্চলিক, ফোক গান ইত্যাদি। আগ্রহ নিয়ে আমরাও নড়েচড়ে বসি। বলি শুনবো। সে শুরু করে। একটার পর একটা। থামে না। ওদিকে সূর্যও ডুবছে। ডুবছে আমাদের আগ্রহও। তার গান শেষ। আমরা কিছু টাকা ওদের হাতে তুলে দেই। খুবই সামান্য। তারপর ফিরে যাই আমার মূল আগ্রহে। ওর কাছ থেকে কিছু শোনার কিছু জানার চেষ্টা চলে। এটা-ওটা জিজ্ঞেস করি। সাথে ক্যামেরা থাকায় একটি বাড়তি সুবিধে পাওয়া গেল। আমি ওর ছবি তুলছি। সেটি সে উপভোগ করছে। সাথে বলে যাচ্ছে তার জীবন-চিত্রের নানা দিক।

সে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কিন্তু স্কুলে যায় না। বলা যায় যেতে পারে না। প্রায় নিয়মিতভাবে। দারিদ্রের কারণে। বদলে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই ছুটে আসে সমূদ্র পাড়ে। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্য এমনকি রাত অবধি চলতে থাকে ওর এ ছুটে চলা। বেড়াতে আসা মানুষদের ও গান শোনায়। গান গেয়ে শুধু নিজের নয়, পুরো পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে। বাবা থাকলে ও না থাকার মত। মা আছে। কিন্তু তার কোন উপার্জন নেই। ফলে এ অল্প বয়সে পরিবারের সদস্যদের মুখে অনিয়মিত খাবার-পানী তুলে দেয়ার দায়িত্ব পড়েছে তার হাতে। তার মতো আরও অনেক শিশু কক্সবাজার সৈকতে আগত মানুষদের গান শোনায়। শুধু জীবিকার জন্য। বেঁচে থাকার তাগিদে।

গান আর সুরে আমাদের অভিভূত করে দিয়ে ও নিজ গন্তব্যে পা বাড়ায়। বাড়ির দিকে। যেখানে ওর দরিদ্র মা ওর জন্য অপেক্ষা করছে।

ও চলে যায় কিন্তু ভাবনাটা থেকে যায়। বারে বারে দোল খায়। ভীষণভাবে। যে বয়সে ওর হাতে বই থাকার কথা, যে বয়সে ও মায়ের কোলে বসে ছড়া আর কবিতা শেখার কথা সে বয়সে ও সমুদ্রের পাড়ে গানের ফেরি করে বেড়ায়। শুধু একটু বেঁচে থাকার জন্য। শুধু একটু খাবারের জন্য। অথচ সুযোগ পেলে ও হয়তো হয়ে উঠতে পারতো বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কণ্ঠ শিল্পীদের একজন। শুধু একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর অভাবে যারা হারিয়ে যায় চিরতরে!!!

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..