ঢাকায় রোহিঙ্গা শিশুর জটিল হাইড্রোকেফালাস রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন

92

|| মোহাম্মদ রফিক হাবিব ||

গণহত্যা থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু ওমর ফায়সালের ঢাকায় হাইড্রোকেফালাস রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন। ওমর ফায়সাল ১জন ছয় বছরের বালক, বাড়ী তার বার্মার অান্ডাং তথা বহুল অালোচিত ১০ রোহিঙ্গার গণকবরের গ্রাম ইন্দিন নামক গ্রামের বাসিন্দা যিনি বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প কুতুপালং রোহিঙ্গা কেম্পের বসবাস করছেন তাঁর বাবা মা ও ভাইবোন নিয়ে।

তাঁকে বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কর্তৃপক্ষ ক্যাম্প থেকে বের হয়ে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে বিশেষ অনুমতি দিলে এই জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে সক্ষম হয়। ঢাকার বিখ্যাত নিউরোসর্জন ড.রেজিনা হামিদ ও তাঁর দল এই জীবনরক্ষাকারী অপারেশনটি দৃঢতার সাথে সফল করেন।
হাইড্রোকেফালাস এমন একটি অবস্থা যেখানে মস্তিষ্কের মধ্যে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (সিএসএফ) তৈরি হয়। অপরিশোধিত শিশুদের প্রায় অর্ধেক মারা যায় দু’বছরের মধ্যেই। বাকী বেশিরভাগের মাথা বড় থাকে এবং তারা বিকাশজনকভাবে বিলম্বিত, স্পস্টিক এবং অন্ধ হয়ে যায়।

ওমর ফয়সালের বাবা-মা মায়ানমারে চিকিৎ্সাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। গত আগস্ট 2017-এর শরণার্থী প্রবাহের দু’বছর আগে ও তাঁর বাবা-মা ওমর ফয়সালকে চিকিৎসাসেবা দিতে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন। তবে চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত প্রতিরোধক ও ব্যয়সাপেক্ষ হওয়াতে বিনা চিকিৎসায় দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল তখন। ২০১৩ সালের রোহিঙ্গা অাগমনচলাকালীনসময়ে পরিবারটি আবার বাংলাদেশে এসেছিল তবে শরণার্থী হয়ে। পরবর্তীতে প্রহসনের রিপার্ট্রিশানে ২০১৪ সালে তাদের ফিরে যেতে হয় অারাকানে।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের নিউরোসার্জারিরর অধ্যাপক এবং এই অবস্থার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজামিন সি ওয়ার্ফ বলেছেন, “এই শিশুটি বেঁচে গেছে। এটি একটি দ্বৈত ট্র্যাজেডি, কারণ এই অবস্থাটি এতটা চিকিত্সাযোগ্য এবং শিশুরা সত্যই ভাল করতে পারে ”।তিনি অার ও বলেন “এই বয়সে মস্তিষ্ক তার বর্ধনের বেশিরভাগ অংশ শেষ করেছে (২ বছর বয়সে) এবং জ্ঞানীয় এবং মোটর প্রভাবগুলি অপরিবর্তনীয়। ডাঃ রেজিনা হামিদ, একজনপ্রাক্তন অধ্যাপক যিনি ওয়ার্ফ দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, কোন পদ্ধতি বা চিকিৎসা ছাড়াই ওমর ফয়সালের “প্রতিবন্ধীতা বৃদ্ধি পেতো এবং তিনি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যেই ছিলেন।”

এই চিকিত্সাটিতে সাধারণএন্সথেসিয়ারসাথে এক্টি শান্ট স্থাপনের বিষয়টি জড়িত ছিল যাতে মাথার ভিতরের অতিরিক্ত তরল পদার্থ শরীরের অন্য অংশে প্রবাহিত করার জন্য খুলি দিয়ে তৈরি একটি গর্তের মাধ্যমেই করতে হয়েছিল।

ওমর ফয়সালের বাবা-মা এই জটিল অপারেশনের ব্যাপারে তাঁদের ছেলের সাহসী এবং দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন। কারণ তাঁরা অনেক বড় ট্রাজেডি মুকাবিলা করে অাজ এই অবস্থায়। বিশেষতঃ তাঁরা স্মরণ করছিল সেই অারাকানজুড়ে গণহত্যা সংঘঠিত হওয়াকালীন ভয়াবহ দিনগুলোর কথা! যখন গণহত্যা থেকে পলায়নরত মানুষগুলো শুধুই বলছিল যে, “যেখানে সুস্থ মানুষই জীবন বাঁচানো মুশকিল সেখানে এক মরণঝুঁকিপূর্ণ শিশুরোগীকে বহন করাটা কতই না বোকামী!!” এতে ওমর ফায়সাল ও তাঁর বাবা মাকে অনবরত বলছিল যে, “তাঁরা যেন তাঁকে রাখাইনে ফেলে রেখে অবশিষ্ট পারিবারিক সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে অন্ততঃ নিজেদের জীবন বাঁচায় অন্যথায় তাঁর বোঝাই সকলকে পিছনে ফেলে দিবে।” ওমরের ভাষায়, “তোমরা অামাকে পিছনে ফেলে দাও। তোমরা অাগে চলো। অামি অামার মতো করে বাঁচবো।” ওমরের সাহস দেখে তাঁর বাবা মা অাশান্বিত হয়ে বহনই করেছিল টানা ১৫দিন।

কিন্তু তাঁর বাবার পিতৃস্নেহ তাঁর সুস্থজীবন জয় করেছে অাজ। টানা ১৫ দিনের বাংলাদেশ অভিমূখে পায়দল যাত্রাকালীনসময়ে ওমর ফয়সালকে বহন করতে হয়েছিল তাঁর বাবার।
তাঁর বাবা রহিমউল্লাহ অারো বলেন, “আমরা জানি এই অপারেশনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তবে আমরা সত্যি তাকে সুস্থ দেখতে একটি সুযোগ পেতে মরিয়া ছিলাম। আমরা মহান অাল্লাহ ও সকল শুভানুধ্যায়ীদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ তাঁর এই সফল অপারেশনটিতে।

গত বৃহস্পতিবার ৮ আগস্ট ওমরকে ছাড় দেওয়া হয়েছে কিন্তু মিনিমাম সুস্থতার পুনরুদ্ধারের জন্যে কয়েক সপ্তাহ ব্যয় করবেন ঢাকাতেই। এবং তারপরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ফিরে আসবেন। ওমর ফয়সালকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়াসটি বড় বড় স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা শিবিরগুলি কর্তৃক হয়নি ; বরং ব্যক্তিপ্রচেষ্টা দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল তাঁর এই জটিল চিকিৎসা । তাঁর চিকিৎসায় বড় বড় সংস্থাগুলোর জড়িত থাকার অনুপস্থিতিটা মুলতঃ এই মরণব্যাধি জটিলর রোগের সম্পূর্ণ রিকভারীর ক্ষেত্রে সম্পদসীমাবদ্ধতা এবং সাধ্যের অভাবের কারণ বলে মনে করা হয়।

মন্তব্য করুনঃ

এই বিভাগের অন্যান্য খবরঃ

রিয়াজুদ্দিন বাজারের হুন্ডি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে স্বর্ণ চোরাচালান
পাহাড় কাটার দায়ে পিএইচপি’কে জরিমানা
কক্সবাজার সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহলে ব্যবহৃত ৫ বীচ বাইক বিক্রির অভিযোগ
অনলাইন সাংবাদিকতা সবচেয়ে স্মার্ট পেশা: জাহিদ ইকবাল
কক্সবাজারে জামাই শশুরের শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট!
সমুদ্র পাড়ের মিউজিক আইডল: গান ফেরি করে যার জীবন চলে !!!
এডভোকেট আবু মুসা মুহাম্মদ এর ঈদ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন
নোঙর এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন কক্সবাজার জেলার প্রগতিশীল সাংবাদিক শাহজাহান চৌধুরী শাহীন
রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব এনশিয়্যান্ট চিটাগাং এর অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে না'গঞ্জ আর্টিস্ট ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ
টেকনাফ উখিয়ায় এমপি শাহীন বদি’র প্রচেষ্টায় অসহায় ৩০টি পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা