হোয়ানক আওয়ামিলীগ এখন রাজাকার বিএনপির দখলে !

95

মোঃ শহীদুল্লাহ কক্সবাজার।

মহেশখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের আওতাধীন হোয়ানক ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি তৃণমূলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাসের শেষ ঠিকানা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনাকে উপেক্ষা ভুক্ত রাজাকার সন্তান মকছুদ আলম কে সভাপতি এবং কট্টর বিএনপি পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর আলমকে সম্পাদক করা হয়েছে। যেন হোয়ানক আওয়ামিলীগ রাজাকার বিএনপির দখলে চলে গেছে।

গত ৩০ শে অক্টোবর মহেশখালীর হোয়ানকের ৩নং ওয়ার্ডে সরকারী প্রকাশিত গেজেটের তালিকাভুক্ত রাজাকার খোরসা পাড়ার মোঃ শাহাদাত কবিরের ছেলে মকছুদ আলম সভাপতি ও বিএনপির পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর আলমকে সম্পাদক করে বিতর্কিত সম্মেলন মাধ্যমে ৩নং ওয়ার্ডের আঃলীগের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন হোয়ানক ইউনিয়ন আঃলীগের নেতৃবৃন্দ। আঃলীগের রাজনীতি হাইজ্যাক করল রাজাকার ও বিএনপির পরিবার।

এ নিয়ে ঐ এলাকায় তৃনমুল আঃলীগে মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেখা গেল টাকার কাছে দলের প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশরত্ন শেখ হাসিনার দলের চলমান শুদ্ধি অভিযানের পাত্তাই দিলনা হোয়ানক ইউনিয়নের এই নেতারা।এর বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিতে জেলা উপজেলা র নেতৃবৃন্দের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এখানকার দলের নিবেদীত স্হানীয় তৃনমুল। করে রাজাকার সন্তান মকছুদ আলমকে সভাপতি এবং কট্টরপন্থী বিএনপি পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বলে জানা যায়। এই খবরে আওয়ামিলীগের একজন তৃণমূলের ত্যাগী নেতার কথা হল হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এখন রাজাকার বিএনপির দখলে।

সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করার মাননীয় সভানেত্রী প্রদত্ত নির্দেশ না মেনে, হোয়ানক ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা কর্মীদের উপেক্ষা করে। হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মীর কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম জফুর বিশেষ সুবিধা নিয়ে। মহেশখালী উপজেলা ভিত্তিক সরকারি গেজেট ভুক্ত রাজাকার হোয়ানক ৩ নং ওয়ার্ডস্থ খোরসা পাড়ার রাজাকার মোঃ সাহাদাত কবিরের ছেলে মকছুদ আলমকে সভাপতি করা হয়। মকছুদ আলম এর আগে ৪ দলীয় জোট বিএনপি জামায়াতের শাসনামলে হোয়ানক বিএনপির সহ সভাপতি ছিল। তখন হোয়ানক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন বিএনপি নেতা আবু তাহের সিকদার। সাধারণ সম্পাদক করা হয় এলাকায় চিহ্নিত কট্টরপন্থী বিএনপি পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর আলমকে।

যার পরিবারের কোন সদস্য কোন সময়ে আওয়ামিলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত থাকাতো দূরের কথা সমর্থন পর্যন্ত করে নাই। এই পরিবার বিএনপি জামায়াতের শাসনামলে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে নানা প্রপাগাণ্ডা ছড়াতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ( ইন্দীরার স্বামী, মুসলমান নয়, হিন্দুদের এজেন্ট, বঙ্গবল্টু ইসলাম বিরোধী ইত্যাদী) অনেক জঘন্য বাক্যে কটুক্তি করত। আজ আওয়ামীলীগ নামধারী হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মীর কাশেম সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম জফুর দুজনে মিলে। সেই রকম একটি আওয়ামিলীগ বিরোধী পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

তৃণমূলের যে নেতা কর্মীরা বিএনপি জামায়াতের চার দলীয় জোট সরকারের আমলে জামাত শিবির ও বিএনপি ক্যাডারদের হাতে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে, চরম নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। এক মিথ্যা মামলার পর আরেক মিথ্যা মামলায় আসামী করে স্থানীয় তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামিলীগের ত্যাগী নেতা কর্মীদের এলাকা ছাড়া করেছিল। জামাত বিএনপির শত নির্যাতনের শিকার হয়েও তৃণমূলের মুজিব সৈনিকেরা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে টু মাইনেস থিউরি বাঞ্চাল করে দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য করেন সেনা সমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের ফখরু উদ্দিন মঈন উদ্দিন সরকারকে।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সারা বাংলায় থাকা বঙ্গবন্ধু, নৌকা ও শেখ হাসিনা পাগল রোগা কঙ্কাল গড়নের তৃণমূল নেতা কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কার ব্যাপক জয় এনে দেন। ২০০৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর বর্তমান সময় পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে তৃতীয় বার সরকার গঠন করে এখনো প্রধানমন্ত্রী আছেন। তৃণমূল আওয়ামিলীগের নেতা কর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাসের শেষ ঠিকানা দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

তিনি দেশব্যাপী নিজস্ব মানুষের মাধ্যমে জরিপ চালিয়েছেন। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁহাকে নির্ভেজাল এবং নিঃস্বার্থ ভাবে যারা ভালবাসেন তারা হল তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতা কর্মীরা। তৃণমূলের সেই নেতা কর্মীরা কে কোন অবস্থায় আছে তাদের খবর নিয়ে নেত্রী জানতে পারেন। সেই নেতা কর্মীরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকেই সুযোগ সুবিধাতো পায়ইনি উল্টো আগে দলের মাঝে সেই ত্যাগী নেতাদের পদ পদবী ছিল পর্যায়ক্রমে সেই পদ পদবী গুলোও হারিয়েছেন যারা প্রকৃত পক্ষে তৃণমূলের মুজিব সৈনিক ছিল তারাই।

দলে ত্যাগীদের এমন করুণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রাণের নেত্রী সারা দেশব্যাপী কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ওয়ার্ড পর্যন্ত কমিটি গুলোতে শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন,” দলে ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করা চলবেনা। তাদের সম্মানের সঙ্গে মুল্যায়ন করতে হবে। কোন যুদ্ধাপরাধী বা তাদের বংশধর, হাইব্রিড অনুপ্রবেশ কারী, সুবিধাবাদী, ইয়াবা কারবারি, দুর্নীতিবাজ,টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, ক্যাসিনোবাজ সহ কোন অপরাধী যেন দলের পদ পদবী না পায়। যারা নেতৃত্বে থেকে দলের মান সম্মান ধুলোর সাথে মিশিয়ে দিয়ে একের পর এক অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় করেছেন। সেই নেতাদের কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা। সেই দুর্নীতিবাজ যদি আমার আত্মীয় স্বজনও হয় তাকে ছাড়া হবেনা। ”

প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সারাদেশের আওয়ামিলীগ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত সংগঠন গুলোর তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নতুন করে সম্মেলন করার নির্দেশ প্রদান করেন। নেত্রীর এমন বক্তব্য শুনে সারা দেশের বঞ্চিত নিপীড়িত ত্যাগী নেতারা বুকভরা আশা নিয়ে আবার রাজনীতির মাঠে ফিরে আসেন। কক্সবাজার জেলারও সেই রকম হাজার হাজার তৃণমূলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা আশায় বুক বেধে বিভিন্ন শাখায় ঘোষিত সম্মেলন করার জন্য মাঠে নামেন। মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ৩ নং ওয়ার্ডের শত শত তৃণমূল নেতা কর্মীরা গত ৩০ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্মেলনে অংশ নেন।

সেই সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে তৃণমূলে অনেক যোগ্য নেতা থাকার পরও হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক জেনে শুনে সরকারি গেজেট ভুক্ত রাজাকার মোঃ সাহাদত কবিরের সন্তান মকছুদ আলমকে সভাপতি করে এবং আরেক জন কট্টর বিএনপি জামাত সমর্থিত পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে। এতে ৩ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল পর্যায়ের অনেক ত্যাগী নেতা কর্মীদের মাঝে হতাশার প্রবল চাপ দেখা যায়। আবার কেউ কেউ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনাকেও উপেক্ষা করা হল?

হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এই ক্ষমতা কোথায় পেল? হোয়ানক ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের তৃণমূলের ক্ষোব্ধ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা জানান তারা এই বিষয়টি উপজেলা,জেলা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আবেদন করে জানাবেন। এমনটাই জানিয়েছেন তৃণমূলের অনেক নেতা কর্মীরা। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতৃবৃন্দ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়েছে এর পেছনে নিশ্চয় কোন কালো শক্তি আছে। হোয়ানক ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের নব গঠিত বিতর্কিত কমিটি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে এর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করতে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুনঃ

এই বিভাগের অন্যান্য খবরঃ

একটি প্যানেল এফডিসিকে জিম্মি করে রেখেছে : শাকিব খান
সাংবাদিক ইমরুল কায়েস অসুস্থ, দোয়া কামনা।
নওগাঁয় প্রথমবারের মতো দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মাণ করছে সরকার
Ranitidine banned for alleged link to cancer
সেন্টমার্টিনে ১লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার !!
টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন আঞ্চলিক সুবিধায় মৌলানা ফেরদৌস
টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালিত !!
বাংলাদেশে আসছেন মাহাথির মোহাম্মদ
রোহিঙ্গা শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদ বন্দুক যুদ্ধে নিহত
খেলাধুলাই পারে জনগণকে মাদক থেকে দূরে রাখতে -উখিয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে না'গঞ্জ আর্টিস্ট ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ফেনীর মহিপালে ৯হাজার ৩শ ১০পিস ইয়াবাসহ টেকনাফের দুই মাদক কারবারী আটক !!