Tuesday, December 11, 2018
Home > খেলাধুলা > ওই অবস্থায় ব্যাটিংয়ে নামাটা ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ: তামিম

ওই অবস্থায় ব্যাটিংয়ে নামাটা ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ: তামিম

সুরঙ্গা লাকমালের বলে হাতে চোট পেয়েছিলেন তামিম। এরপর মাঠ ছেড়ে যেতে হয়েছিল তাকে। ৪৭তম ওভারে সেই লাকমালের ওভারেই আবার চোট নিয়ে মাঠে ফেরেন তামিম। সেঞ্চুরিয়ান মুশফিককে সঙ্গ দিয়ে শেষ জুটিতে ৩২ রান যোগ করতে সহায়ক ভুমিকা রাখেন। এক হাতে একটি বলও মোকাবেলা করছেন তিনি। এই ঘটনাকে অবিশ্বাস্য বলছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

তামিম কেন এমন ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামলেন তা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। তামিমও মনে করেন ওই অবস্থায় ব্যাটিংয়ে নামাটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ বিষয়ে ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, আমার চোট পাওয়া হাতটা পেছনে ছিল। কিন্তু যখন আমি বল খেলছিলাম হাতটা তখন সামনে চলে এসেছিল। যদি বল মিস হতো তবে তা আমার হাতেও আঘাত হানতে পারত।

তবে সবকিছু ভুলে গিয়েছিলেন জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে। তামিম বলেন, যখন বোলার দৌঁড়াচ্ছিলেন তখন নিজেকে বেশ সাহসী মনে হচ্ছিল। স্টেডিয়ামে দর্শকদের উল্লাসধ্বনিতে আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম। আমি চলে যেতে বা অন্য কিছু করতে পারতাম। কিন্তু দল ও জাতির কাছে খুবই অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলাম।

তামিমের এশিয়া কাপ শেষ এমনটি বোর্ড কর্মকর্তারাও বলে দিয়েছিলেন। সেরে ওঠতে ছয় সপ্তাহ সময় লাগবেও। এই অবস্থায় নবম উইকেটে মুস্তাফিজ আউট হওয়ার পর তামিমের নামার কথা আসলে কেউ চিন্তাই করেননি। অথচ সেই অবস্থায় নামার পর বাংলাদেশের রানটা ২২৯ থেকে চলে যায় ২৬১-তে। পবর্তীতে ১৩৭ রানের বিরাট জয় তুলে নেয় মাশরাফি বাহিনী।

তামিম বলেন, যখন ড্রেসিংরুমে মাশরাফি ভাই মজা করে বলছিলেন আমার ব্যাট করতে যাওয়া উচিত। তখন শেষ ওভারে ব্যাটিংয়ে যাওয়ার চিন্তা করছিলাম। যাতে আমি গিয়ে শুধু দাঁড়িয়ে থাকতে পারি।

মাহমু্দউল্লাহ, মাশরাফি ও মেহেদি হাসান মিরাজ আউট হওয়ার তামিম মাঠে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যান। তখন ড্রেসিংরুমে জিনিসটাকে অনেকে কমেডি হিসেবে নিয়েছিলেন। তামিম বলেন, রুবেল আউট হওয়ার পর আমি প্যাড পরতে শুরু করলাম। মাশরাফি ভাই গ্লাভস কেটে আঙুল বের করতে সাহায্য করলেন। জীবনে প্রথমবার অন্য কেউ আমার অ্যাবডোমেন গার্ড পরতে সাহায্য করেছিল। মুমিনুল ও অন্যরা আমাকে প্যাড পরত সাহায্য করেছিল। অন্যরাও আমাকে সাহায্য করছিল।

শেষ ওভারে নন স্ট্রাইকিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পরিকল্পনা করলেও মুস্তাফিজ স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে এক বল বাকি থাকতেই আউট হয়ে যান। মুশফিক তখন ১১২ রান নিয়ে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে ছিলেন। এরপর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে। তামিম শেষ বল মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তামিম বলেন, মুস্তাফিজ যখন যখন বল মোকাবেলা করছিল তখনও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। আমি কিছুই ভাবতে পারছিলাম না। আমি শুধু ওঠে দাঁড়ালাম। পরে মুস্তাফিজ আউট হওয়ার পর এক সেকেন্ডও চিন্তা করিনি। আমি তখন নিশ্চিত মাঠে নামছি।

শেষ দিকে অন্তত ১০টা রানও যদি আসে সেটা ভাবছিলেন তামিম। তবে মুশফিক ৩২ রান করবে এটা ভাবেননি। তামিম বলেন, আমার খুব উচ্চাশা ছিল এশিয়া কাপ নিয়ে। আবেগ দিয়ে আমি সেই মুহূর্তটা উৎরে যেতে সক্ষম হই। চিন্তা করছিলাম একটা বল আমি মোকাবেলা করতে পারলে ৫ থেকে ১০টা রানও যদি হয়। তবে কেউ ভাবেনি আমি এই একটি বল মোকাবেলা করব এবং আরও ৩২ রান আসবে। তবে মুশফিক সত্যি অবিশ্বাস্যভাবে সেই কাজটি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এখন অনেক বাহবা পেলেও তামিমের মাথায় সেসব বিষয় ছিল না। তিনি বলেন, আমি কখনও ভাবিনি জীবনে এমন একটা অভিজ্ঞতা আমার হবে। আমি এখন অনেক বাহবা পাচ্ছি। তবে আমি যখন যাই এবং বলটি মোকাবেলা করি তখন এসব কিছুই মাথায় ছিল না। আমি শুধু দল ও দেশের কথা ভাবছিলাম।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ গ্রুপপর্যায়ে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *