Tuesday, January 22, 2019
Home > সারাদেশ > চৌমুহনীতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সভায় মারামারিতে আহত ৩০

চৌমুহনীতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সভায় মারামারিতে আহত ৩০

সোমবার বিকালে চৌমুহনী শহীদ মিনার চত্বরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সভা ছিল। সভার শুরুতে অতর্কিতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বহিরাগতসহ সমর্থকরা মারধর আরম্ভ করে। সভার মঞ্চ ও চেয়ার ভেঙ্গে তচনছ করে দেয়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বিকাল ৪টায় চৌমুহনী শহীদ মিনার চত্বরে সন্ত্রাস বিরোধী সভা শুরু হয়। শুরুর প্রাক্কালে চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সল গ্রুপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদ গ্রুপের স্থানীয় ও বহিরাগত লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে সভামঞ্চ, চেয়ার ভাংচুর করে। সভা পণ্ড করে দেয়। হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে ৩০ জনের মতো আহত হয়।

পরে হামলাকারীরা ‘ফয়সল ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাখে।’ এমন শ্লোগান দিতে থাকে। একই সময় মিনহাজ আহমেদ জাবেদের পক্ষেও শ্লোগান দিয়ে চৌমুহনী শহরে লাঠিসোটা নিয়ে বিভিন্ন সড়কে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান রিয়াজের দোকান ও অফিস ভাংচুর করে। এ সময় মুহূর্মুহূ ককটেল বিষ্ফোরণ, ও বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে দুই ঘন্টা চেষ্টা করে। এরপর অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ত্রাস বিরোধী সভা আহবান করা হয়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জামায়াত শিবির ও বিএনপির ক্যাডারদের সমন্বয়ে ফয়সল গ্রুপ ও জাবেদ গ্রুপ এ হামলা চালিয়ে অরাজগতার সৃষ্টি করে। যা চৌমুহনীবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদের সঙ্গে ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পছন্দ করি না। কেউ হয়তো আমাকে কালার করার জন্য শ্লোগান দিয়েছে। চৌমুহনী পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সল জানান, আমাকে গুলি করা হয়েছে। এতে আমার সঙ্গের তিনজন রিংকু, সবুজ ও রাসেল আহত হয়েছে। এখন আমি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।

বেগমগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান শেখ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান আনসারির ওপর সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঢাকাস্থ একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর প্রেক্ষিতে ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বিকালে চৌমুহনী শহীদ মিনার চত্বরে সন্ত্রাস বিরোধী সভা আহবান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *