ভাবি যখন বউ পর্ব

ভাবি যখন বউ পর্ব – ৬

Table of Contents

ভাবি যখন বউ গল্প

 

নিশান যে কেনো এমন করল আমার সাথে? আজ কাব্যের বদলে নিশানের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, ভাগ্য সেটা হতে দিল না। নিশানের বদলে কাব্যকে ঠিক করেছে আমার ভাগ্য। আর, কাব্যকে আমি কি করে না করি, যে আমি যাবো না? ও তো মানা করতেও বারন করেছে আমাকে। এসব কথা চিন্তা না করে এখন নিচে যাই, নয়তো ও নিজে উপরে এসে যাবে যেকোনো সময়।
এই বলে মিরা রুম থেকে বেরিয়ে নিচে চলে গেল।

মিরার জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম। মিরা সিড়ি দিয়ে নিচে নামল। মিরাকে দেখা মাত্রই বাবা স্নেহপূর্ন একটা হাসি দিল।

বাবা – গুড আফটারনুন, মা মিরা ।
বাবার কথায় আমরা সবাই হেসে উঠলাম। আমরা জানি বাবা মিরাকে হাসানোর জন্যই ইচ্ছে করে বলেছে এটা। আর মিরাও তা শুনে ফিক করে হেসে দিলো।
মিরা – শুভ নুন। [GD NOON ]
আমার মা তো হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে মিরা আর বাবার কথা-বার্তার ধরন দেখে।
বাবা – কেমন কাটল আজ দিনটা?
– ভালো কেটেছে বাবা।
– সন্ধ্যায় আরো ভালো কাটবে।
মিরা প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাল বাবার দিকে।
– আজ সন্ধ্যায় তুমি আর কাব্য বেড়াতে যাবে।
কথা’টা শুনে মিরা আমার দিকে তাকাল। হয়তো মিরা ভাবেনি আমি আব্বু-আম্মুকে বলব এই ব্যাপারটা।

মা – আচ্ছা, এখন আয় বস। খেয়ে নে।
মিরা আমার পাশেই বসল। গল্প করতে করতে খাবার খেয়ে নিলাম আমরা। বাবাও অফিসে চলে গেলো। বাবা’কে টিফিন সাথে দিলেও বাসায় খেতে আসে। বাবা নাকি একা একা খেতে পারে না। সবার সাথে খেতেই নাকি বাবার আনন্দ।

 

ভাবি যখন বউ পর্ব
ভাবি যখন বউ পর্ব – ৬

Bhabi jokhon bow story

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি রুমে গিয়ে দেখলাম মিরা আলমারিতে কি যেন একটা খুঁজছে।
আমি – কি খুজছো? শাড়ি?
মিরা আমার কথা শুনে ঘুরে দেখল আমি। মাথা নাড়াল।
– পছন্দ হচ্ছে না ?
– না।
ছোট্র করে জবাব দিল।
– আমি পছন্দ করে দিচ্ছি।
বলে আমি শাড়িগুলো উল্টে-পাল্টে দেখলাম। অবশেষে একটা সাদা শাড়ি পছন্দ হল। আমি মিরার দিকে এগিয়ে দিলাম শাড়ি’টা।
– এটা…
(অবাক হয়ে বলল মিরা)
– হ্যা এটা পড়লে তোমাকে সাদা পরীর মতো লাগবে।
মিরা কেন যেন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
– কি হল?
– না, কিছু না।

আমি একটা নীল শার্ট, প্যান্ট পরে প্রস্তত হয়ে নিলাম। ঘড় থেকে বেরিয়ে গেলাম। আজ নীলাকে ফোন করতে হবে, না জানি মেয়েটা কি করছে? নীলা আমাকে শক্ত শক্ত কথা বললেও – আমি জানি সে নিজেও অনেক কষ্ট পেয়েছে। ফোন দিলাম কিন্তু সে রিসিভ করছে না। কিছুক্ষণ পর মোবাইলটা বন্ধ দেখাচ্ছে।
ধুর। সে মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে মিরা অবাক হচ্ছে। আর হয়তো ভাবছে এরা দুই ভাইয়ের পছন্দ এক হয় কি করে ? চলফেরাও এক। নিশানও ঠিক একই কথা বলত,
– সাদা শাড়ি পড়লে তোমাকে সাদা পরী লাগবে।
আর নিশানও সাদা শাড়িটাই পছন্দ করত।

আমি নিচেই ছিলাম। মিরার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আর মিরা যখন নিচে নামল তখন আসলেই মিরাকে সাদা পরীর মত লাগছে। এতো সুন্দর দেখতে মেয়েটা।
মিরা নিচে নেমে যখন দেখল আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি তখন সে একটু লজ্জা পেল।
– কি হল? এমনভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?
আমি – নাহ, এম এমনি চল।
– হুম। আম্মু যাচ্ছি। (মা’কে উদ্দেশ্য করে)
– হুম যা। যতক্ষণ মন চায় ঘুরে আয়।
মায়ের কথা শুনে মিরা একটা হাসি দিল। গাড়িতেবউঠলাম দু-জন। গাড়ি আমি drive করছি। মিরা বাইরের দিকে তাকিয়ে বাইরের সৌন্দর্য দেখছে। মিরাকে একটা নদীর কিনারায় নিয়ে গেলাম। জায়গাটা তেমন পপুলার না তবে জায়গাটা সুন্দর বলে অনেকে এখানে ঘুরতে আসে। আর খুব সুন্দর পরিবেশ। মিরা গাড়ি থেকে নামতেই লাফালাফি শুরু করে দিল। যেন সে কত বছর পর ঘুরতে আসল।
আমরা অনেক ঘুরাঘুরি করলাম। খেলাম। মিরাকে দেখে খুব খুশি মনে হচ্ছে আজ।
– অনেক সময় হয়েছে, এখন যাওয়া যাক। আর অনেক রাত হয়ে গেছে।
– হুম চলো।
– না আরোও কিছুক্ষণ থাকবে?
– না চলো।
আমরা গাড়িতে উঠলাম। গাড়ি স্টার্ট করলাম। অনেক পথ এগিয়ে আসলাম হঠাৎ করে মিরা চেঁচিয়ে উঠল। মিরা সামনের সিটে আমার পাশেই বসা ছিল।
মিরা – কাব্য গাড়ি থামাও কাব্য।
আমি – কি কি হয়েছে?
মিরা – নিশান, নিশানকে দেখেছি আমি গাড়ি থামাও কাব্য।
মিরার কাছে ভাইয়ার কথা শুনে আমি গাড়ি থামালাম। সাথে সাথে গাড়ি থেকে বেরুলাম। মিরা পাগলের মত আচরণ করছে,
আমি – কোথায় দেখেছো কোথায়?
মিরা – ঐতো এদিকে একটা গাড়ি যাচ্ছিল। ঐটাতে দেখেছি আমি । কাব্য নিশান কে এনে দাও কাব্য please !
[মিরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল]
আমি – তুমি এখানেই থাকো। আমি আসছি।
আমি দৌড় দিলাম। চারিদিকে খুঁজতে লাগলাম। একটা গাড়ি দেখলাম। গাড়ির পিছনে ছুটলাম কিন্তু নাগাল পেলাম না।
দৌড়ে আবার আমার গাড়ির পাশে এলাম। মিরা দাঁড়িয়ে আছে আর কাঁদছে।
মিরা – কাব্য, নিশান কোথায় কাব্য?
-আমি তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠো। তাড়াতাড়ি।
গাড়িতে উঠে তাড়াতাড়ি স্টার্ট করলাম। গাড়িটা যেদিকে গেছে সেদিকে আমিও অনুসরণ করলাম। কিন্তু…

ভাবি যখন বউ গল্পের পরবর্তী পর্ব পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *